হাদীসে বর্ণিত দোয়া

 

হাদীসে বর্ণিত দোয়া:

 

 

মন খুলে, হৃদয় উজাড় করে আল্লাহ তা’আলার নিকট দোয়া করুন।

(১)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَشَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى وَشَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ – اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ – اللَّهُمَّ اغْسِلْ قَلْبِي بِمَاءِ الثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَنَقِّ قَلْبِي مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنْ الدَّنَسِ وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ – اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, জাহান্নামের ফিতনা ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে। কবরের ফিতনা ও কবরের ‘আযাব থেকে। আশ্রয় চাচ্ছি, সম্পদের ফিতনা ও দারিদ্রের ফিতনার ক্ষতি থেকে।

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি মাসীহিদ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।

হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে বরফ ও ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধৌত করে দাও। আমার অন্তরকে গুনাহ থেকে পরিষ্কার করে দাও। যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে তুমি পরিষ্কার করে থাকো। হে আল্লাহ! থেকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত তুমি যে বিশাল দূরত্ব সৃষ্টি করেছ আমার আমলনামা থেকে আমার গুনাহগুলো ততটুকু দূরে সরিয়ে দাও। হে আল্লাহ! আমার অলসতা, গুনাহ ও ঋণ থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই।[২৭]

 

 

(২)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَامِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্য, কৃপণতা থেকে। আশ্রয় চাই তোমার নিকট কবরের আযাব ও জীবন মরনের ফিতনা থেকে।[২৮]

 

 

(৩)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلاَءِ وَدَرَكِ الشَّقَاءِ وَسُوءِ الْقَضَاءِ وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই, কঠিন বালা-মুসিবত, দুর্ভাগ্য ও শত্রুদের বিদ্বেষ থেকে।[২৯]

 

 

(৪)

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي – وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي – وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِي الَّتِي فِيهَا مَعَادِي – وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ – وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার দ্বীনকে আমার জন্য সঠিক করে দিও যা কর্মের বন্ধন। দুনিয়াকেও আমার জন্য সঠিক করে দাও যেখানে রয়েছে আমার জীবন যাপন। আমার জন্য আমার পরকালকে পরিশুদ্ধ করে দাও, যা হচ্ছে আমার অনন্তকালের গন্তব্যস্থল। প্রতিটি ভাল কাজে আমার জীবনকে বেশী বেশী কাজে লাগাও এবং সকল অমঙ্গল ও কষ্ট থেকে আমার মৃত্যুকে আরামদায়ক করে দিও।[৩০]

 

 

(৫)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُد্ى وَالتُّقٰى وَالْعَفَافَ وَالْغِنٰى

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়াত তাকওয়া ও পবিত্র জীবন চাই। আরো চাই যেন কারো কাছে দ্বারস্থ না হই।[৩১]

 

 

(৬)

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ- اَللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا – اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجَابُ لَهَا

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য ও কবরের ‘আযাব থেকে।

হে আল্লাহ! তুমি আমার মনে তাকওয়ার অনুভূতি দাও, আমার মনকে পবিত্র কর, তুমি-ই তো আত্মার পবিত্রতা দানকারী। তুমিই তো হৃদয়ের মালিক, অভিভাবক ও বন্ধু।

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই এমন ‘ইল্‌ম থেকে যে ‘ইল্‌ম কোন উপকার দেয় না, এমন হৃদয় থেকে যে হৃদয় বিনম্র হয় না, এমন আত্মা থেকে যে আত্মা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই যে দোয়া কবূল হয় না।[৩২]

 

 

(৭)

اللَّهُمَّ اهْدِنِيْ وَسَدِّدْنِي – اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُد্তুى وَالسَّدَادَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে হেদায়াত দান কর, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর। হে আল্লাহ! তোমার নিকট হেদায়াত ও সঠিক পথ কামনা করছি।[৩৩]

 

 

(৮)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার দেয়া নেয়ামাত চলে যাওয়া ও অসুস্থতার পরিবর্তন হওয়া থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই তোমার পক্ষ থেকে আকষ্মিক গজব আসা ও তোমার সকল অসন্তোষ থেকে।[৩৪]

 

 

(৯)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার অতীতের কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যে কাজ আমি করিনি তার অনিষ্টতা থেকেও আশ্রয় চাই।।[৩৫]

 

 

(১০)

اَللَّهُمَّ إِِنِّيْ أِعُوْذُبِكَ أِنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أِعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর যদি অজান্তে শিক হয়ে থাকে তবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।[৩৬]

 

 

(১১)

اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو – فَلاَ تَكِلْنِيْ إِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ – وَأَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهচ্ – لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার রহমত প্রত্যাশা করছি। সুতরাং তুমি আমার নিজের উপর তাৎক্ষণিকভাবে কোন দায়িত্ব অর্পণ করে দিও না। আর আমার সব কিছু তুমি সহীহ শুদ্ধ করে দাও। তুমি ছাড়া আর কোন মা’বুদ নেই।[৩৭]

 

 

(১২)

اللَّهُمَّ اجْعَلِ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي وَنُورَ صَدْرِيْ وَجِلاَءَ حُزْنِيْ وَذَهَابَ هَمِّيْ

অর্থঃ হে আল্লাহ! কুরআনকে তুমি আমার হৃদয়ের বসন্তকাল বানিয়ে দাও, বানিয়ে দাও আমার বুকের নূর এবং কুরআনকে আমার দুঃখ ও দুঃশ্চিন্তা দূর করার মাধ্যম বানিয়ে দাও।[৩৮]

 

 

(১৩)

اللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلٰى طَاعَتِكَ

অর্থঃ হে অন্তরের পরিবর্তন সাধনকারী রব! আমাদের অন্তরকে তোমার অনুগত্যের দিকে পরিবর্তন করে দাও।[৩৯]

 

 

(১৪)

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

অর্থঃ হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।[৪০]

 

 

(১৫)

– اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি।[৪১]

 

 

(১৬)

– اللَّهُمَّ أَحْسِنْ عَاقِبَتَنَا فِي الأُمُورِ كُلِّهَا وَأَجِرْنَا مِنْ خِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الآخِرَةِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সকল কাজের পরিণতি সুন্দর ও উত্তম করে দাও এবং আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনা, অপমান এবং আখেরাতের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দিও।[৪২]

 

 

(১৭)

رَبِّ أَعِنِّي وَلاَ تُعِنْ عَلَيَّ – وَانْصُرْنِي وَلاَ تَنْصُرْ عَلَيَّ – وَامْكُرْ لِي وَلاَ تَمْكُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرْ هُدَايَ إِلَيَّ – وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ – اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي لَكَ شَاكِرًا لَكَ ذَاكِرًا لَكَ رَاهِبًا لَكَ مِطْوَاعًا إِلَيْكَ مُخْبِتًا أَوْ مُنِيبًا – رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي – وَاغْسِلْ حَوْبَتِي – وَأَجِبْ دَعْوَتِي – وَثَبِّتْ حُجَّتِي – وَاهْدِ قَلْبِي – وَسَدِّدْ لِسَانِي – وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي

অর্থঃ হে আমার রব! তুমি আমাকে সাহায্য কর, আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না। আমাকে সহায়তা কর, আমার বিপক্ষে কাউকে সহায়তা করো না। আমাকে কৌশল শিখিয়ে দাও, আমার বিপক্ষে কাউকে চক্রান্ত করতে দিও না। আমাকে হেদায়ত দাও, হেদায়তের পথ আমার জন্য সহজ করে দাও। আমার বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ করে, তার বিপক্ষে আমাকে সাহায্য কর। আমাকে তোমার অধিক শুকরগুজার, যিক্‌রকারী বান্দা বানিয়ে দাও। তাওফিক দাও যাতে তোমাকে অধিক ভয় করি। তোমার আনুগত্য করি। তাওফিক দাও যাতে আমি তোমার প্রতি বিনয়ী হই, তাওবাকারী প্রত্যাবর্তনশীল বান্দা হই।

হে আমার রব! তুমি আমার তাওবা কবূল কর। আমার অপরাধটুকু ধুয়ে ফেল। আমার দু’আ কবূল কর। আমার যুক্তিগুলো অকাট্য করে দাও। আর অন্তরকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত কর, আমার ভাষাকে সঠিক করে দাও এবং আমার কলব থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দাও।[৪৩]

 

 

(১৮)

– اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ -صلى الله عليه وسلم- وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ -صلى الله عليه وسلم- وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ الْبَلاَغُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কাছে যেসব কল্যাণকর জিনিস চেয়েছিলেন সেগুলো আমাকেও তুমি দাও। আর তোমার নিকট ঐ অমঙ্গল-অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যে অমঙ্গল থেকে তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় চেয়েছিলেন। সাহায্য তো শুধু তোমার কাছে চাইতে হয় এবং সবকিছু পৌঁছিয়ে দেয়ার দায়িত্বও তোমার। তুমি আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোন নেক কাজ করা কিংবা গুনাহ করার কোন শক্তি নেই।[৪৪]

 

 

(১৯)

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِيْ وَمِنْ شَرِّ بَصَرِيْ وَمِنْ شَرِّ لِسَانِيْ وَمِنْ شَرِّ قَلْبِيْ وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّيْ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তি আমার জিহ্বা ও অন্তর এবং আমার ভাগ্য এসব অঙ্গের অনিষ্টতা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।[৪৫]

 

 

(২০)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئْ الأَسْقَامِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট শ্বেতরোগ পাগলামি ও কুষ্ঠ রোগসহ সকল জটিল রোগ থেকে আশ্রয় চাই।[৪৬]

 

 

(২১)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি অসৎ চরিত্র, অপকর্ম এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাই।[৪৭]

 

 

(২২)

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমিতো ক্ষমার ভাণ্ডার, ক্ষমা করাকে তুমি পছন্দ কর। কাজেই আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।[৪৮]

 

 

(২৩)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ – وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي – وَإِذَا أَرَدْتَ فِتْنَةً فِي قَوْمٍ فَتَوَفَّنِي غَيْرَ مَفْتُونٍ – وَأَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ – وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُنِي إِلَى حُبِّكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নেক কাজ করা, অসৎ কাজ পরিত্যাগ এবং মিসকীনদের ভালবাসার গুণাবলী দাও। আরো প্রর্থানা করিছ যে, তুমি আমাকে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর। আর যখন তুমি কোন জাতিকে কোন প্রকার ফিতনায় ফেলার ইচ্ছা কর তখন আমাকে ফিতনামুক্ত মৃত্যু দান কর। তোমার ভালবাসা আমি চাই, যারা তোমাকে ভালবাসে তাদের ভালবাসাও চাই এবং এমন আমলের ভালবাসা আমি চাই, যে আমল আমাকে তোমার ভালবাসার নিকট পৌঁছে দেবে।[৪৯]

 

 

(২৪)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ- وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ – اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَاذَ بِهِ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ – وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ – وَأَسْأَلُكَ أَنْ تَجْعَلَ كُلَّ قَضَاءٍ قَضَيْتَهُ لِي خَيْرًا

অর্থঃ হে আল্লাহ! দুনিয়া ও আখিরাতের আমার জানা অজানা যত কল্যাণ ও নেয়ামাত আছে তা সবই আমি চাই। দুনিয়া ও আখিরাতের আমার জানা-অজানা সকল অকল্যাণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐ সব কল্যাণ চাচ্ছি যা তোমার বান্দা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেয়েছিলেন এবং তোমার নিকট ঐ সব অমঙ্গল থেকে আশ্রয় চাচ্ছি যা থেকে তোমার বান্দা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় চেয়েছিলেন।

হে আল্লাহ! আমি তো বেহেশতে যেতে চাই। আর সে কথা ও কাজের তাওফীক চাই যা সহজেই আমাকে বেহেশতে পৌঁছাবে। হে আল্লাহ! জাহান্নামের আগুন থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই এবং যে কথা ও কাজ মানুষকে জাহান্নামবাসী করে সেগুলো থেকেও তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আর প্রতিটি কাজের বিচারে আমার জন্য কল্যাণকর ফায়সালা করে দিও।[৫০]

 

 

(২৫)

اَللَّهُمَّ احْفَظْنِيْ بِالإسْلامِ قَائِمًا وَاحْفَظْنِيْ بِالإسلامِ قَاعِدًا وَاحْفَظْنِيْ بِالإسْلامِ رِاقِدًا وَلاَ تشمتْ بِيْ عَدُوَّا وَلاَ حَاسِدًا – اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ كُلِّ خَيْرٍ خَزَائِنُهُ بِيَدِكَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ كُلِّ شَرٍّ خَزَائِنُهُ بِيَدِكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! দাঁড়ানো অবস্থায় ইসলামের মাধ্যমে আমাকে হেফাযত করিও, বসা অবস্থা ইসলামের মাধ্যমে হেফাযত করিও এবং শোয়া অবস্থা ইসলামের মাধ্যমে আমাকে হেফাযত করিও। আমার বিপদে শত্রুকে আনন্দ করার সুযোগ দিও না। শত্রুকে আমার জন্য হিংসুটে হতে দিও না।

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐ সব কল্যাণের প্রার্থনা করছি, যেসব কল্যাণ তোমার হাতে রয়েছে। সে সব অকল্যাণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই যা তোমার হাতে রয়েছে।[৫১]

 

 

(২৬)

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَعَافِنِي وَارْزُقْنِي

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার প্রতি দয়া কর, আমাকে হেদায়াত কর, নিরাপদে রাখ এবং আমাকে রিযিক দান কর।[৫২]

 

 

(২৭)

اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي إِنَّك أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের প্রতি অনেক যুলম করে ফেলেছি। আর তুমি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে ক্ষমা কর, আমার প্রতি দয়া কর। নিশ্চয়ই তুমি বড়ই ক্ষমাশীল ও অতিশয় দয়ালু রব।[৫৩]

 

 

(২৮)

اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ خَاصَمْتُ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الَّذِي لاَ يَمُوتُ وَالْجِنُّ وَالْإِنْسُ يَمُوتُونَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি-ই ঈমান এনেছি এবং তোমার উপর-ই তাওয়াক্কুল করেছি। আর তোমার নিকট-ই ফায়সালা চেয়েছি।

হে আল্লাহ! তোমার ইজ্জতের আশ্রয় চাচ্ছি তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তুমি চিরস্থায়ী, যাঁর মৃত্যু নেই। আর জ্বিন ও মানব তো সবাই মরে যাবে।[৫৪]

 

 

(২৯)

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي وَبَارِكْ لِي فِيمَا رَزَقْتَنِي

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহকে ক্ষমা করে দাও, আমার ঘরে প্রশস্ততা দান কর এবং আমার রিযিকে বরকত দাও।[৫৫]

 

 

(৩০)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ فَإِنَّهُ لاَ يَمْلِكُهَا إِلاَّ أَنْتَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার নিকট অনুগ্রহ ও দয়া চাই। কারণ অনুগ্রহ ও দয়ার মালিক তুমি ছাড়া কেউ না।[৫৬]

 

 

(৩১)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَالْهَدْمِ وَالْغَرَقِ وَالْحَرِيقِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট যমীন ধসে পড়া, ধ্বংস হওয়া, পানিতে ডুবা ও আগুনে পোড়া থেকে আশ্রয় চাই। মৃত্যুর সময় শয়তানের ছোবল থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই তোমার নিকট তোমার পথে পৃষ্ঠপ্রদর্শন হয়ে মৃত্যু থেকে। তোমার নিকট আশ্রয় চাই দংশনজনিত মৃত্যু থেকে।[৫৭]

 

 

(৩২)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْجُوعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষুধা থেকে আশ্রয় চাই। করণ এটা নিকৃষ্ট শয্যাসঙ্গী। খেয়ানত থেকেও তোমার কাছে আশ্রয় চাই। কারণ এটা নিকৃষ্ট বন্ধু।[৫৮]

 

 

(৩৩)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَالْقَسْوَةِ وَالْغَفْلَةِ وَالْعَيْلَةِ وَالذِّلَّةِ وَالْمَسْكَنَةِ – وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْكُفْرِ وَالْفُسُوْقِ وَالشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَالسَّمْعَةِ وَالرِّيَاءِ – وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الصَّمَمِ وَالْبَكَمِ وَالْجُنُوْنِ وَالْجُذَامِ وَالْبَرَصِ وَسيء الأسْقَامِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য, নিষ্ঠুরতা, গাফিলতি, অভাব-অনটন, হীনতা, নিঃস্বতা থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই দারিদ্র্য, কুফরী, পাপাচার, ঝগড়াঝাটি, কপটতা, সুনাম-কামনা করা ও লোক দেখানো ইবাদত থেকে।

আশ্রয় চাই তোমার নিকট বধিরতা, বোবা, পাগলামী, কুষ্ঠরোগ ও শ্বেত রোগসহ সকল খারাপ রোগ থেকে।[৫৯]

 

 

(৩৪)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দারিদ্র্য, স্বল্পতা, হীনতা থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই যালিম ও মাযলুম হওয়া থেকে।[৬০]

 

 

(৩৫)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ يَوْمِ السُّوْءِ وَمِنْ لَيْلَةِ السُّوْءِ وَمِنْ سَاعَةِ السُّوْءِ وَمِنْ صَاحِبِ السُّوْءِ وَمِنْ جَارِ السُّوْءِ فِي دَارِ الْمَقَامَةِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই খারাপ দিন, খারাপ রাত, বিপদ মুহূর্ত, অসৎসঙ্গী এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারী খারাপ প্রতিবেশী থেকে।[৬১]

 

 

(৩৬)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَسْتَجِيْرُبِكَ مِنَ النَّارِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জান্নাতের প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাচ্ছি।[৬২]

 

 

(৩৭)

اَللَّهُمَّ فَقِّهْنِيْ فِي الدِّيْنِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে দ্বীনের পাণ্ডিত্য দান কর।[৬৩]

 

 

(৩৮)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! জেনে বুঝে তোমার সাথে শির্ক করা থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই এবং না জেনে শির্ক করা থেকে তোমার নিকট ক্ষমা চাই।[৬৪]

 

 

(৩৯)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী ‘ইল্‌ম, পবিত্র রিযিক এবং কবূল আমলের প্রার্থনা করছি।[৬৫]

 

 

(৪০)

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

অর্থঃ হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করে দাও আমার তাওবা কবূল কর। নিশ্চয়ই তুমি তাওবা গ্রহণকারী ও অতিশয় ক্ষমাশীল।[৬৬]

 

 

(৪১)

اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْهَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنْ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে যাবতীয় গোনাহ ও ভুলভ্রান্তি থেকে পবিত্র কর। হে আল্লাহ! আমাকে গোনাহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন কর যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! আমাকে বরফ, শীতল ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা পবিত্র কর।[৬৭]

 

 

(৪২)

اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَرَبَّ إِسْرَافِيلَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ حَرِّ النَّارِ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ.

অর্থঃ হে আল্লাহ! হে জিব্রাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের রব! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের উত্তাপ ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই।[৬৮]

 

 

(৪৩)

اللَّهُمَّ أَلْهِمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي.

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে হেদায়েতের অনুপ্রেরণা দান কর। আমার অন্তরের অনিষ্টতা থেকে আমাকে বাঁচিয়ে রাখো।[৬৯]

 

 

(৪৪)

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَّ يَنْفَعُ.

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি উপকার দানকারী ইলম চাই, এমন ইলম থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই যা কোন উপকারে আসে না।[৭০]

 

 

(৪৫)

اَللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوْبِنَا – وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا – وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلاَمِ – وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوْرِ – وَجَنِّبْنَا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ু وَبَارِكْ لَنَا فِيْ أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُلُوْبِنَا وَأَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا – وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْمُ – وَاجْعَلْنَا شَاكِرِيْنَ لِنِعَمِكَ مثنين بِهَا عَلَيْكَ قَابِلِيْنَ لَهَا وَأَتْمِمْهَا عَلَيْنَا.

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহে ভালবাসা স্থাপন করে দাও। আমাদের নিজেদের মাঝে সংশোধন করে দাও। আমাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত কর। অন্ধকার গোমরাহী থেকে বাঁচিয়ে আলোকিত হিদায়াতের পথে নিয়ে যাও। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখ। আমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, অন্তরসমূহসহ আমাদের স্ত্রী-পুত্র সন্তানদের মাঝে বরকত দান কর। আমাদের তাওবা কবূল কর। তুমিতো দয়াময় তওবা কবুলকারী। আমাদেরকে তোমার প্রশংসা করে তোমার নেয়ামতের শুকরিয়া করার তাওফীক দাও। তুমি তোমার নেয়ামত আগ্রহভরে গ্রহণ করার তাওফীক দাও এবং তা আমাদের প্রতি পরিপূর্ণরূপে দান কর।[৭১]

 

 

(৪৬)

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَسْأَلَةِ وَخَيْرَ الدُّعَاءِ وَخَيْرَ النَّجَاحِ وَخَيْرَ الْعَمَلِ وَخَيْرَ الثَّوَابِ وَخَيْرَ الْحَيَاةِ وَخَيْرَ الْمَمَاتِ – وَثَبِّتْنِيْ وَثَقِّلْ مَوَازِيْنِيْ وَحَقِّقْ إِيْمَانِيْ وَارْفَعْ دَرَجَاتِيْ وَتَقَبَّلْ صَلاَتِيْ وَاغْفِرْ خَطِيْئَتِيْ وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتُ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ – اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ فَوَاتِحِ الْخَيْر وَخَوَاتِمَهُ وَجَوَامِعَهُ وَأَوَّلَهُ وَظَاهِرَهُ وَبَاطِنَهُ وَالدَّرَجَاتِ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ آَمِيْنَ – اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا آتي وَخَيْرَ مَا أَفْعَلُ وَخَيْرَ مَا أَعْمَلُ وَخَيْرَ مَا بَطَنَ وَخَيْرَ مَا ظَهَرَ وَالدَّرَجَاتِ العُلَى مِنَ الْجَنَّةِ آمِيْن -اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ أَنْ تَرْفَعَ ذِكْرِيْ وَتَضَعَ وِزْرِيْ وَتُصْلِحَ أَمْرِيْ وَتَطْهَرْ قَلْبِيْ وَتَحْصِنَ فَرْجِيْ وَتَنَوَّرَ قَلْبِيْ وَتَغْفِرَ لِيْ ذَنْبِيْ – اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ أَنْ تُبَارِكَ فِيْ نَفْسِيْ وَفِيْ قَلْبِيْ وَفِيْ سَمْعِيْ وَفِيْ بَصَرِيْ وَفِيْ رُوْحِيْ وَفِيْ خَلْقِيْ وَفِيْ خُلُقِيْ وَفِيْ أَهْلِيْ وَفِيْ مَحْيَايَ وَفِيْ مَمَاتِيْ وَفِيْ عَمَلِيْ فَتَقَبَّلْ حَسَنَاتِيْ وَأَسْأَلُكَ الدَّرَجَاتِ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ آمِيْنْ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তোমার নিকট আমি উত্তম প্রার্থনা, দু’আ, উত্তম সফলতা, উত্তম আমল, উত্তম সাওয়াব, উত্তম জীবন ও উত্তম মৃত্যু কামনা করছি। আমাকে তুমি অটল অবিচল রাখ। আমার আমলনামা ভারী করে দাও, আমার ঈমানকে সুদৃঢ় কর, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। আমার সলাত কবূল কর এবং আমার গুনাহ ক্ষমা কর। জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে আমাকে অধিষ্ঠিত কর।

হে আল্লাহ! আমাকে তুমি কল্যাণের শুরু, শেষ, পূর্ণাঙ্গ, প্রকাশ্য অপ্রকাশ্যসহ জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা দান কর। আমীন!

হে আল্লাহ! আমি যা উপস্থিত করছি, কর্ম করছি ও আমল করছি এবং এসবের উত্তম প্রতিদান অর্জনের জন্য তোমার নিকট মুনাজাত করছি। আর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব কিছুর কল্যাণসহ জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা তোমার কাছে চাই। আমীন!

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এই মর্মে প্রার্থনা করছি যে, তুমি আমার মর্যাদা বুলন্দ কর, আমার গোনাহর বোঝা সরিয়ে নাও। আমার সবকিছু ঠিক করে দাও, আমার অন্তরকে পবিত্র কর, আমার লজ্জাস্থানকে হেফাজাত কর, আমার অন্তরকে আলোকিত কর, আমার গুনাহ ক্ষমা কর।

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, আমার মন ও আত্মায়, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিতে বরকত দান কর। বরকত দান কর আমার রুহে, আকৃতিতে, চরিত্র-মাধুর্যে, আমার পরিবারে, আমার জীবনে, মৃত্যুতে এবং আমার আমলে বরকত দান কর। সুতরাং আমার নেক আমল কবূল কর। জান্নাতের সর্বোচ্চ আসনে তুমি আমাকে অধিষ্ঠিত করিও। আমীন!

 

 

(৪৭)

اَللَّهُمَّ جَنِّبْنِيْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَهْوَاءِ وَالأَعَمَالِ وَالأَدْوَاءِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে অসৎ চরিত্র, কুপ্রবৃত্তি, অপকর্ম ও অপ্রতিষেধক (ঔষধ) থেকে দূরে রাখ।৭৭

 

 

(৪৮)

اَللَّهُمًَّ قَنِّعْنِيْ بِمَا رَزَقْتَنِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْهِ وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِيْ بِخَيْرٍ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে যে রিযিক দান করেছ এতে তুমি আমাকে তুষ্টি দান কর এবং বরকত দাও। আর আমার প্রতিটি অজানা বিষয়ের পরে আমাকে তুমি কল্যাণ এনে দাও।[৭২]

 

 

(৪৯)

اللَّهُمَّ حَاسِبْنِي حِسَابًا يَسِيرًا

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার হিসাবকে তুমি সহজ করে দাও।[৭৩]

 

 

(৫০)

اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার যিকর, কৃতজ্ঞতা এবং তোমার উত্তম ইবাদাত করার তাওফীক দাও।[৭৪]

 

 

(৫১)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيمَانًا لاَ يَرْتَدُّ وَنَعِيمًا لاَ يَنْفَدُ وَمُرَافَقَةَ النَّبِيِّ -صلى الله عليه وسلم-فِي أَعْلَى جَنَّةِ الْخُلْدِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন ঈমানের প্রার্থনা করছি, যে ঈমান হবে দৃঢ় ও মজবুত, যা নড়বড়ে হবে না, চাই এমন নেয়ামত যা ফুরিয়ে যাবে না। এবং চিরস্থায়ী সুউচ্চ জান্নাতে প্রিয় নবী মুহম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে থাকার তাওফীক আমাকে দিও।[৭৫]

 

 

(৫২)

اللَّهُمَّ قِنِي شَرَّ نَفْسِي وَاعْزِمْ لِي عَلَى أَرْشَدِ أَمْرِي – اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَخْطَأْتُ وَمَا عَمَدْتُ وَمَا عَلِمْتُ وَمَا جَهِلْتُ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে আমার আত্মার অনিষ্টতা থেকে রক্ষা কর। পথনির্দেশপূর্ণ কাজে আমাকে তুমি দৃঢ় রাখ। হে আল্লাহ! আমি যা গোপন করি এবং যা প্রকাশ করি, ভুল করি, ইচ্ছা বশতঃ করি, যা জেনে করি এবং না জেনে করি- এসব কিছুতে আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও।[৭৬]

 

 

(৫৩)

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الْعَدُوِّ وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঋণের প্রভাব ও আধিক্য, শত্রুর বিজয় এবং শত্রুদের আনন্দ উল্লাস থেকে আশ্রয় চাই।[৭৭]

 

 

(৫৪)

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ ضِيقِ الْمَقَامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর, আমাকে হেদায়েত দান কর, আমাকে রিযিক দান কর, আমাকে নিরাপদে রাখ, ক্বিয়ামাতের দিনের সংকীর্ণ স্থান থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।[৭৮]

 

 

(৫৫)

اللَّهُمَّ أَحْسَنْتَ خَلْقِي فَأَحْسِنْ خُلُقِي.

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার আকৃতি ও অবয়বকে সুন্দর করেছ। অতএব আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দাও।[৭৯]

 

 

(৫৬)

اَللَّهُمَّ ثَبِّتْنِيْ وَاجْعَلْنِيْ هَادِيًا مَهْدِيًّا.

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে অটল-অবিচল রাখ এবং আমাকে পথপ্রদর্শক ও হিদায়াতপ্রাপ্ত হিসেবে গ্রহণ করে নাও।[৮০]

 

 

(৫৭)

اَللَّهُمَّ آتِنْيْ الْحِكْمَةَ الَّتِيْ مَنْ أُوْتِيْهَا فَقَدْ أُوْتِيَ خَيْرًا كَثِيْراً.

অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হেকমত দান কর। যাকে তুমি হেকমত দান করেছ, তাকে অনেক কল্যাণ দান করা হয়েছে। আমীন!

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِيْنَ

হে আল্লাহ! প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (স) ও তাঁর পরিবার পরিজন ও সকল সাহাবায়ে কেরাম (রা) এর প্রতি দুরূদ ও সালাম বর্ষিত কর।


[ ১ ] আহমাদ ২১৬০৪ [ ২ ] ইবনে মাজাহ ৩৮৪৬ [ ৩ ] (সহীহ আল-জামেউস সগীর ১২৬০) [ ৪ ] (মুসলিম) [ ৫ ] (বুখারী ৮৩৪) [ ৬ ] (বুখারী ৭৪৪২ ও ৭৩৮৩) [ ৭ ] (মুসনাদে আহমদ) [৮] (তাবারানী) [৯] (নাসায়ী ৫৫৩১) [১০] (আবূ দাঊদ ৫৪৬) [১১] (সহীহ জামেউস সগীর ১২৮৫) [১২] (নাসায়ী, আবূ দাঊদ) [১৩] (সহীহ জামেউস সগীর ১২৯৯) [১৪] (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) [১৫] (বুখারী- ফাতহুলবারী, মুসলিম) [১৬] (মুসনাদে আহমদ) [১৭] (ইবনে মাজাহ) [১৮] (আবূ দাঊদ, তিরমিযী ৩৪৩৪) [১৯] (নাসাঈ ৪০২) [২০] (নাসাঈ ৫৫১৯) [২১] (ইবনে মাজাহ ৩৪৮৩) [২২] (ইবনে মাজাহ ৩৮৪৩) [২৩] (হাকিম)৭৭ (হাকিম) [২৪] (হাকিম) [২৫] (মিশকাত ৫৫৬২) [২৬] (আবূ দাউদ ১৫২২) [২৭] (ইবনে হিব্বান) [২৮] (হাকিম) [২৯] (নাসায়ী ৫৪৭৫) [৩০] (নাসায়ী ১৬১৭) [৩১] (জামে সগীর ১৩০৭) [৩২] (বুখারী- ফাতহুল বারী)

 

তথ্য সূত্রঃ Preaching Authentic Islam In Bangla.